পাবনার সাঁথিয়ায় বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আলোচনায় আসা সেই ছেলে সাগর হোসেন অবশেষে মাকে ঘরে ফিরিয়ে নিয়েছেন। চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের হস্তক্ষেপে মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্বও নিয়েছেন তিনি। নিজের ভুল স্বীকার করে মাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চেয়েছেন ছেলে। এতে হাসি ফুটেছে মা-ছেলের মুখে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান এ তথ্য জানান।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মুন্নি খাতুন (৫০) তাঁর ছেলে সাগর হোসেনের (৩০) কাছে আশ্রয় ও ভরণপোষণ চেয়ে একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।
সাগর উপজেলার নাগডেমরা ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ হিসেবে কর্মরত। স্থানীয়ভাবে একাধিকবার চেষ্টা করেও বিরোধের স্থায়ী সমাধান না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ করেন মুন্নি খাতুন।
গত বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) ওই অভিযোগের শুনানি করেন ইউএনও সেলিম আহমেদ। এ সময় তিনি সাগরকে তাঁর বৃদ্ধ ও অসুস্থ মাকে নিজের সঙ্গে রেখে দেখাশোনা করার জন্য অনুরোধ করেন। মায়ের শেষ বয়সের নিরাপত্তা ও মানবিক দিক বিবেচনা করে সমস্যাটির সমাধানেও তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন ইউএনও।
তবে মাকে নিজের সঙ্গে রাখতে রাজি হননি সাগর। একপর্যায়ে ইউএনওকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘মাকে আমার সঙ্গে দিলে আমি সুইসাইড করব। আমি মাকে সঙ্গে রাখতে পারব না। স্যার, আপনি বলে দেন, আমি মাকে মাসে কত টাকা দেব।
ইউএনওর কার্যালয়ে মা-ছেলের কথোপকথনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে ঘটনাটি পাবনার চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাঁথিয়া থানার আমলি ম্যাজিস্ট্রেটের নজরে আসে। আদালত স্বপ্রণোদিত হয়ে রোববার বিকেলে সাঁথিয়া থানার ওসিকে মা ও ছেলেকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।
ওসি আনিসুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে মা ও ছেলেকে গাড়িতে করে আদালতে হাজির করা হয়। বিচারক তাঁদের বক্তব্য শোনেন এবং বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেন। পরে বিচারকের মধ্যস্থতায় মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিতে সম্মত হন সাগর। নিজের ভুল বুঝতে পেরে মাকে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চান তিনি। ভবিষ্যতে মায়ের সঙ্গে আর এমন আচরণ করবেন না বলেও প্রতিশ্রুতি দেন।
মুন্নি খাতুন বলেন, আমি এখন খুব খুশি। ছেলেটা তার ভুল বুঝতে পারছে, আমাকে ঘরে তুলে নিয়েছে, তার কাছে রাখবে। এর চেয়ে খুশির আর কী হতে পারে।
সাগর হোসেন বলেন, আমি নিজের ভুল বুঝতে পেরেছি। মাকে অসম্মান করেছিলাম। এটা আমার ঠিক হয়নি। বিচারক আমার ভুল ধরিয়ে দিয়েছেন। বাকি জীবন মাকে সঙ্গে নিয়েই বাঁচতে চাই। সবাই দোয়া করবেন।
আই/এ