দেশজুড়ে

খাসজমি দখলের প্রতিবাদে ভূমিহীনদের মানববন্ধন, বিএনপি নেতার বাধা

কামরুল হাসান, পটুয়াখালী প্রতিনিধি

উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চরলতায় সরকারি খাসজমি ও খাস খাল দখল করেছে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এলাকার প্রকৃত ভূমিহীনদের বঞ্চিত করায় ফুসে উঠছেন ভূমিহীনরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধনকালে বাঁধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে চরলতার ভূমিহীন কৃষকরা একটি মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

চরলতার ভূমিহীন কৃষকরা জানান, রাঙ্গাবালীর চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি মো. দেলোয়ার হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. ঈসা গাজী (মৃত আবদুর রব গাজীর ছেলে), কৃষক দলের সহসভাপতি বাহাউদ্দীন গাজী, ৬ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. দুলাল দালালসহ স্থানীয় কিছু নেতার এই খাসজমি দখল করেছেন।

চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. আল আমিন অভিযোগ করে বলেন, এই প্রভাবশালী ব্যক্তিরা স্থানীয় প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারগুলোকে না জানিয়ে উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে নামে ও বেনামে ৬৭টি প্রাক্কলনে প্রায় ১০৫ একর সরকারি খাসজমি একসনা ইজারা এনেছেন।

এ চক্রটি চালিতাবুনিয়া এলাকায় হাট-ঘাট, খাল ও খাসজমি দখল এবং শালিস বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগ রয়েছে।এছাড়া চরলতা এলাকার প্রায় ৫০০ একর সরকারি খাসজমি এসব ভূমিদস্যু দখল করে রেখেছেন। তাদের এমন কার্যকলাপে এলাকার সাধারণ ভূমিহীন ও দিনমজুর পরিবারগুলো চরম অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

তিনি বলেন,  এ অনিয়মের প্রতিবাদে ভূমিহীন পরিবারগুলো মানববন্ধন করতে গেলে অভিযুক্ত বিএনপি নেতারা এতে বাঁধা প্রদানের চেষ্টা করে। পরে ভূমিহীনদের তোপের মুখে প্রভাবশালী মহলটি পিছু হটতে বাধ্য হয়।

অভিযোগের বিষয়ে চালিতাবুনিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ঈসা গাজী জানান, তারা রাঙ্গাবালী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিস থেকে ৬৭ জন লোকের নামে ১০৫ একর খাসজমি একসনা ইজারা নিয়েছেন। তালিকায় নিজের নাম থাকার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে তার নিজের নাম নেই, তবে ওই এলাকার ৬৭ জন মানুষের নামে তরমুজ চাষাবাদের জন্য সরকারের কাছ থেকে এই জমি এনে দেওয়া হয়েছে।

তবে চরলতার ভূমিহীন কৃষক মো. জাফর সিকদার ও আলম জানান, সম্পূর্ণ গোপনে ও জালিয়াতির মাধ্যমে নামে-বেনামে এই জমি ইজারা নেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এই জমি স্থানীয় প্রকৃত ভূমিহীনদের না দিয়ে বিভিন্ন এলাকার লোকজনের কাছে তরমুজ চাষের জন্য মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে বিক্রি বা হস্তান্তর করা হচ্ছে।

অতি দ্রুত এই বিতর্কিত ইজারা বাতিল করে সরকারি খাসজমি ও খাল উদ্ধার করা হোক এবং প্রকৃত ভূমিহীন পরিবারের মাঝে চাষাবাদ ও বসবাসের জন্য তা বণ্টন করা হোক।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নাজমুল হাসান বলেন, বিষয়টি আমি অবগত আছি। ইতোমধ্যে চর দখলকারিদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা গ্রহণ করেছি। চালিতাবুনিয়া বিছিন্ন দ্বীপ হওয়ায় সরেজমিনে যেতে পারিনি। তবে আগামীতে সরেজমিনে গিয়ে বিষয়টি দেখবো।

আই/এ

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #খাসজমি #পটুয়াখালী