Connect with us

আবহাওয়া

‘ডেঞ্জার জোন’ ডাউকি, বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা

Avatar of author

Published

on

ভূমিকম্পের ‘ডেঞ্জার জোন’ হয়ে উঠেছে ‘ডাউকি ফল্ট’। ঢাকায় গত সোমবার (১৪ আগস্ট) রাতে যে ভূমিকম্প হয়েছে সেটির উৎপত্তিস্থল বাংলাদেশের ভূগর্ভের ডাউকি চ্যুতি নামে পরিচিত ফাটল বরাবর। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫। এই মাত্রা গেলো ২০ বছরে দেশের ভেতরে উৎপত্তি হওয়া ভূমিকম্পগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ। গেলো কয়েক বছরে এই চ্যুতিরেখায় বেশ কিছু ভূমিকম্প হয়েছে। এর ফলে বড় ভূমিকম্পের আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সাধারণত রিখটার স্কেলে ৫–এর ওপরে গেলে মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্প বলা হয়। এর নিচে হলে তাকে মৃদু কম্পন হিসেবে গণ্য করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে উৎপত্তি সবচেয়ে বেশি মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল ২০০৩ সালের ২৬ জুলাই। যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। এ ছাড়া গত এক বছরে বাংলাদেশে ১৭টি ভূমিকম্প হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি ভূমিকম্প ছিল ৫ মাত্রার বেশি। এর মধ্যে গত সোমবারের ভূমিকম্প ছাড়া বাকি দুটি ভূমিকম্পের একটি ২০২২ সালের ১৫ আগস্ট হয়। যার মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ১। আর আরেকটি ভূমিকম্প হয় চলতি বছরের ২৩ জানুয়ারি। ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ২। এ ছাড়া ১৪টি ভূমিকম্পের মাত্রাই ছিল ৪ থেকে ৫–এর মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার যে ভূমিকম্প অনুভূত হয় তার উৎস ছিল ঢাকা থেকে ২২৮ কিলোমিটার দূরে সিলেটের কানাইঘাট ও ভারতের আসাম সীমান্তের কাছে। ভূগর্ভের ১০ কিলোমিটার গভীরে এর উৎপত্তি। ভূমিকম্পটির কম্পন রাজধানীসহ সারাদেশে ভালোই অনুভূত হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ভূমিকম্প পর্যবেক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান রুবায়েত কবির বলেন, সাধারণত দেশের ভেতরের উৎস থেকে যেসব ভূমিকম্প হয়, তা চার থেকে পাঁচ মাত্রার হয়ে থাকে। এতে মৃদু কম্পন ও কিছুটা আতঙ্ক তৈরি হওয়া ছাড়া তেমন ক্ষয়ক্ষতি হতে দেখা যায় না। গেলো ২০ বছরে সাড়ে ৫ মাত্রার ভূমিকম্প হতে আমরা দেখিনি। সোমবারের ভূমিকম্পের উৎসস্থলটি ডাউকি চ্যুতি বরাবর। সেখানে ভূমিকম্প বাড়ছে। এটা ওই এলাকায় বড় ভূমিকম্পের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের হিসাবে, সবচেয়ে তীব্র ভূমিকম্পের ঝুঁকিতে রয়েছে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিনটি জেলা ও সিলেটের জৈন্তাপুর এলাকা। সিলেটকে বরাবরই ভূমিকম্পের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে বলে আসছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রায়ই এখানে ভূমিকম্প অনুভূত হয়। গেলো দু’বছরে সিলেট অঞ্চলে স্থানীয়ভাবে সৃষ্ট বেশ কয়েকটি ভূকম্পন অনুভূত হয়েছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ, ছাতক, বিশ্বনাথ, সিলেট সদর এবং ডাউকি ফল্ট জৈন্তাপুরে কয়েকটি ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল। ২০২১ সালে ১০ দিনের ব্যবধানে সিলেটে যে ১০ দফা ভূমিকম্প হয়েছে। এসব ভূমিকম্পের উৎপত্তি ছিল ডাউকি ফল্টে। এজন্য সিলেটের স্থানীয় এ ভূমিকম্প নিয়ে বিশেষজ্ঞরাও চিন্তিত।

Advertisement

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাধারণত বড় ভূমিকম্পের আগে বা পরে এমন দফায় দফায় মৃদু কম্পন হতে পারে। ফলে ভূমিকম্পের চরম ঝুঁকিতে রয়েছে সিলেট। আর সিলেট থেকে ঢাকার অবস্থান খুব বেশি দূরে নয়। সেখানে যদি ৬ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হয় তাহলে এর বড় প্রভাব গোটা দেশেই।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে করা বিভিন্ন জরিপে দেখা গেছে, ঢাকায় মোট ১৩ লাখ, চট্টগ্রামে ৩ লাখ এবং সিলেট জেলায় ১ লাখ বহুতল ভবন রয়েছে। এসব ভবনের ৭৫ শতাংশই ছয়তলা বা তার চেয়ে বেশি। ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে এই ভবনগুলো এবং এর বাসিন্দারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বাংলাদেশের সিলেট ও ভারতের আসাম মিলিয়ে ডাউকি চ্যুতি পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় তিন শ কিলোমিটার বিস্তৃত। এর আগে, ১৮৯৭ সালে ‘ডাউকি ফল্টে’ ৮ দশমিক ৭ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হয়েছিল। ওই ভূমিকম্পের উৎস ছিল ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটার দূরে। সেসময় ভূমিকম্পে ভূমিকম্পে আহসান মঞ্জিলসহ ১০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

 

এএম/

Advertisement
Advertisement
মন্তব্য করতে ক্লিক রুন

মন্তব্য করতে লগিন করুন লগিন

রিপ্লাই দিন

আবহাওয়া

বাড়তে পারে তাপমাত্রা

Published

on

আবহাওয়া,-তাপদাহ

মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা কমে যাওয়ায় সারাদেশে কমেছে বৃষ্টির পরিমাণ। অন্যদিকে, এ সপ্তাহজুড়ে তাপমাত্রা বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার (২৬ জুলাই) পর্যন্ত দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।

বৃহস্পতিবার (২৫ জুলাই) আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানিয়ে আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার ও আগামীকাল শুক্রবার সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। শনিবার (২৭ জুলাই) এ তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকতে পারে। অন্যদিকে, আগামী সাপ্তাহে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, আজ খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায়, ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

এসময় সারাদেশে দিনের এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

শুক্রবার খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসময় সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে।

Advertisement

এদিকে, সারাদেশেই বৃষ্টিপাত কমেছে। বুধবার দেশে সর্বোচ্চ ১৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে তেঁতুলিয়ায়। ময়মনসিংহ সিলেট ও খুলনায় হালকা বৃষ্টি হয়েছে। ঢাকায় ১২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছিল পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় ও সিলেটের শ্রীমঙ্গলে।

 

এসি//

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

আবহাওয়া

দেশের চার বিভাগে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস

Published

on

সংগৃহীত ছবি

আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে আগামী ৩ দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস জানানো হয়েছে। যেখানে ৪ বিভাগে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) আবহাওয়া অফিসের দেওয়া এক বিবৃতিতে, পরবর্তী ৭২ ঘণ্টার পূর্বাভাস জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে, অন্যদিকে রাতের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানা যায়।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের বেশ কিছু জায়গায়- পাশাপাশি ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী বর্ষণ হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত রংপুর, সিলেট, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এদিন সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

Advertisement

 

এম/এইচ

 

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

আবহাওয়া

চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির আভাস

Published

on

ঢাকায়-বৃষ্টি

দেশের চার বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ। সংস্থাটি বলছে— রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে।

রোববার (১৪ জুলাই) আবহাওয়া অফিসের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে— আজ সন্ধ্যা ৬টার পর থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

অপর দিকে একই সময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পেতে পারে। তবে রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া বিভাগ।

পরদিন, অর্থাৎ ১৬ তারিখ সন্ধ্যার পর থেকে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়াসহ হালকা ও মাঝারি ধরনের বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

একই সময়ে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।

Advertisement

এএম/

পুরো পরতিবেদনটি পড়ুন

সর্বাধিক পঠিত