বয়স বাড়লেই সঙ্গী হয়ে আসে পেটের মেদ। ভুঁড়ি যেন এক অবাঞ্ছিত অতিথি, যা আমাদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি করে। কিন্তু কি জানেন সঠিক অভ্যাসগুলো মেনে চললে, জিমে না গিয়েও পেটের মেদ কমানো সম্ভব?
ভুঁড়ি বা পেটের মেদ আসার মূল কারণ হলো অতিরিক্ত ক্যালরি যা শরীরে জমে যায়। যখন আপনি খাবার খান এবং সে খাবারের ক্যালরি বার্ন না হয়, তখন সেই অতিরিক্ত ক্যালরি মেদ হিসেবে শরীরে জমে পেটের আশপাশে। সুতরাং, ভুঁড়ি কমানোর প্রথম পদক্ষেপ হলো সেই অতিরিক্ত ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করা।
ভুঁড়ি কমানোর সহজ উপায়:
চিনি কমান
চিনির খাবার যেমন কোমল পানীয়, মিষ্টি, বা চিনিযুক্ত চা-কফি সব কিছুই একে একে বাদ দিন। কারণ চিনি সরাসরি পেটের মেদ জমাতে সাহায্য করে। আপনার পানীয় যদি চিনিহীন হয়, তবে তা শরীরের জন্য অনেক ভালো। চিনি ছেড়ে ফলমূল ও শাকসবজি খান যেখানে প্রাকৃতিক চিনি আছে।
তৈলাক্ত খাবার পরিহার করুন
ফাস্টফুড বা অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার শরীরে অবাঞ্ছিত মেদ বাড়ায়। যতটা সম্ভব স্ন্যাকস হিসেবে তেলবিহীন খাবার খান।
প্রোটিন ও ফাইবারের গুরুত্ব
প্রোটিন ও ফাইবার মিশ্রিত খাবার পেট ভরিয়ে রাখে এবং অল্পতেই তৃপ্তি আসে। এতে করে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার ইচ্ছা কমে। মাংস, ডাল, শাকসবজি বা ফলমূল খেলে হজমও ভালো হয় এবং মেদ কমে।
শরীর সচল রাখুন
জিমে না গেলেও নিয়মিত হাঁটা বা ঘরের কাজ করতে থাকুন। ছোট ছোট শারীরিক কাজের মাধ্যমে শরীর সচল রাখা পেটের মেদ কমাতে সাহায্য করে। ডেস্কে বসে না থেকে মাঝে মাঝে উঠে একটু হাঁটাহাঁটি করুন।
পর্যাপ্ত পানি পান করুন
শরীরে পানি কম থাকলে মেদ বার্ন হতে পারে না। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করুন। এটি পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত খিদে কমায়।
ঘুমের অভাব এড়ান
পর্যাপ্ত ঘুম শরীরকে রিচার্জ করতে সাহায্য করে। ঘুমের অভাবে শরীর ফ্যাট বার্ন করার ক্ষমতা হারায়। সুতরাং, প্রতি রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো জরুরি।
মানসিক চাপ কমান
মানসিক চাপও ওজন বাড়ানোর একটি বড় কারণ। আপনার কাজের চাপ বা মানসিক উদ্বেগের কারণে শরীরে হরমোনের পরিবর্তন ঘটে, যা মেদ বাড়াতে সাহায্য করে। তাই কাজের মাঝে বিরতি নিয়ে কিছু সময় শ্বাসপ্রশ্বাসের ব্যায়াম করুন।
ভুঁড়ি কমানোর জন্য জিমে না গিয়ে ছোট ছোট অভ্যাস বদলান। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি, নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, ঘুম এবং মানসিক চাপ কমানোর মাধ্যমে আপনি পাবেন একটি স্লিম এবং ফিট শরীর।
এসকে//