নিরাপদ ও স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ভেনেজুয়েলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র। বলেছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় শনিবার (০৩ জানুয়ারি) ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে নিজের বাসভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ট্রাম্প জানান, যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের ফলে ভেনেজুয়েলার জ্বালানি খাতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হবে। তিনি বলেন, দেশটির তেল শিল্প দীর্ঘদিন ধরে ধ্বংসপ্রায় অবস্থায় ছিল এবং সম্ভাব্য উৎপাদনের তুলনায় অত্যন্ত কম তেল উত্তোলন করা হচ্ছিল।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় তেল কোম্পানিগুলো শিগগিরই ভেনেজুয়েলায় বিনিয়োগে আগ্রহী হবে। এসব প্রতিষ্ঠান বিপুল অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে ভেঙে পড়া অবকাঠামো—বিশেষ করে তেল খাত—পুনর্গঠনে কাজ করবে এবং এর মাধ্যমে দেশটির অর্থনীতিতে আয় সৃষ্টি হবে।
ট্রাম্প বলেন, ক্ষমতার একটি নিরাপদ, গ্রহণযোগ্য ও দায়িত্বশীল রূপান্তর সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার পরিচালনায় যুক্ত থাকবে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, নিকোলাস মাদুরোকে বিচারের আওতায় আনতে কারাকাসের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত একটি উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালানো হয়।
ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের এই সামরিক পদক্ষেপের সক্ষমতা বিশ্বের আর কোনো দেশের নেই। তাঁর মতে, অভিযানের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার সামরিক শক্তিকে পুরোপুরি অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছে। এ সময় কারাকাসে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ কৌশলগত সক্ষমতার অংশ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবে। যুক্তরাষ্ট্র ও এর নাগরিকদের বিরুদ্ধে ‘প্রাণঘাতী নার্কো-সন্ত্রাসবাদে’ জড়িত থাকার অভিযোগে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান ট্রাম্প।
এছাড়া ট্রাম্প বলেন, প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলায় আরও বড় পরিসরে দ্বিতীয় দফা সামরিক অভিযান চালাতে প্রস্তুত। তবে তার দাবি অনুযায়ী, প্রথম অভিযানের সাফল্যের কারণে দ্বিতীয় দফা হামলার প্রয়োজন নাও হতে পারে।
এমএ//