ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাস থেকে ‘তুলে নেওয়ার’ প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজ যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (০৩ জানুয়ারি) বিকেল ৫টার দিকে নিউইয়র্ক সিটি থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত স্টুয়ার্ট এয়ার ন্যাশনাল গার্ড ঘাঁটিতে বিমানটি অবতরণ করে।
পরে মাদুরোকে কঠোর নিরাপত্তায় ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টারে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখান থেকেই তাকে মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে হাজির করা হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিমানঘাঁটিতে অবতরণের পর মাদুরোকে হেলিকপ্টারে করে ম্যানহাটনের ওয়েস্টসাইড হেলিপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর তাকে মার্কিন মাদক নিয়ন্ত্রণ সংস্থা ডিইএর সদর দপ্তরে নিয়ে প্রাথমিক আইনি কার্যক্রম সম্পন্ন করার কথা রয়েছে। সেখান থেকে তার চূড়ান্ত গন্তব্য হবে ব্রুকলিনের বন্দিশিবির।
নিউইয়র্কের এই কারাগারটি উচ্চপ্রোফাইল বন্দীদের রাখার জন্য পরিচিত। অতীতে পপ তারকা আর কেলি, যৌন অপরাধে অভিযুক্ত জেফরি এপস্টেইনের সহযোগী গিলেন ম্যাক্সওয়েল এবং সম্প্রতি র্যাপার শন ‘ডিডি’ কম্বসকেও এখানে রাখা হয়েছিল।
মার্কিন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, মাদুরোকে বহনকারী উড়োজাহাজের দরজায় এফবিআইয়ের ইউনিফর্ম পরা কর্মকর্তারা অবস্থান করছেন। কিছুক্ষণ পর মাদুরোকে উড়োজাহাজ থেকে নামতে দেখা যায়। কারাকাস থেকে নেওয়ার পর এটিই তার প্রথম প্রকাশ্য উপস্থিতি।
উল্লেখ্য, ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে ২০২০ সালে নিউইয়র্কের সাউদার্ন ডিস্ট্রিক্ট আদালতে মাদুরোর বিরুদ্ধে কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রসহ একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।
এর আগে শনিবার ভোরে কারাকাসে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং নিচু দিয়ে যুদ্ধবিমান উড়ে যেতে দেখা যায়। তখন থেকেই মাদুরোর সরকার যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বেসামরিক ও সামরিক স্থাপনায় হামলার অভিযোগ তোলে এবং ঘটনাগুলোকে ‘সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসন’ বলে আখ্যা দেয়। একই সঙ্গে সরকার উৎখাতের চেষ্টার অভিযোগও করে তারা।
হামলার পর ভেনেজুয়েলার ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এক বিবৃতিতে জানান, প্রেসিডেন্টের অবস্থান নিশ্চিত না হওয়ায় সংবিধান অনুযায়ী তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী কোথায় আছেন বা তারা জীবিত কিনা—সে বিষয়ে সরকার স্পষ্ট কোনো তথ্য পায়নি এবং এ বিষয়ে প্রমাণ দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প এক পোস্টে দাবি করেন, মাদুরো ও তার স্ত্রীকে আটক করে দেশটির বাইরে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সমন্বয়ে পরিচালিত এই অভিযান সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
এমএ//