পবিত্র রমজান মাস শুরু হতেই রাজধানীর বাজারগুলোতে নিত্যপণ্যের দামে নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে মুরগি, সবজি ও ডালের দামে অল্প সময়ের ব্যবধানে বড় ধরনের বৃদ্ধি দেখা গেছে। শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) বিভিন্ন বাজার ঘুরে এমন চিত্র পাওয়া গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, রমজানের প্রথম দিনেই কোনো কারণ ছাড়াই বেড়েছে নিত্যপণ্যের দাম। বাজারে আলু ও পেঁপে ছাড়া ১০০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি। ৭-৮ টাকার লেবু বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। বেগুন ৭০-৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১২০-১৩০ টাকায়, আর ৫০ টাকার শসা এখন ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও দ্বিগুণের বেশি হয়ে কেজিতে ১৬০ টাকায় উঠেছে।
এদিকে দুই দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির দাম কেজিতে বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। আগে ১৭০ টাকায় বিক্রি হওয়া মুরগি এখন ২২০ থেকে ২৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সোনালি মুরগিও ৩২০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৫০ টাকায় উঠেছে। গরুর মাংস কেজিতে ৫০ টাকা বেড়ে এখন ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খাসির মাংসের দামে তেমন পরিবর্তন নেই।
ডালের বাজারেও স্বস্তি নেই। মসুর ডাল কেজিতে ১৪০ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ১৩৫ টাকা। মোটা দানার মসুর ডাল ৮০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় উঠেছে। এঙ্কর ডাল ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ১১০-১২০ টাকায় পৌঁছেছে। আটা ও সয়াবিন তেলের দামও বেড়েছে। দুই কেজির আটার প্যাকেট ১০০ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ১২০ টাকা। সয়াবিন তেল লিটারে ১৮৫ টাকা থেকে বেড়ে ১৯৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে পেঁয়াজের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল। বাজারে প্রতি কেজি পেঁয়াজের দাম দাম টাকা।
ছোলার বাজার কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। পাইকারি বাজারে ৮০-৮৫ টাকা এবং খুচরা বাজারে ৯৫-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানি ভালো থাকায় ছোলায় সংকট নেই।
অন্যদিকে শুল্ক কমানো হলেও খেজুরের বাজারে তেমন প্রভাব পড়েনি। জনপ্রিয় বিভিন্ন জাতের খেজুর রমজানের আগে তুলনায় আরও বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। রমজানের আগে দাবাস খেজুরের দাম ছিল ৪৯০ থেকে ৫০০ টাকা। এখন বিক্রি হচ্ছে ৫৫০ থেকে ৫৭০, বরই খেজুর ৪৮০ থেকে ৫০০, কালমি ৭০০, সুক্কারি ৮০০, মাবরুম ৮৫০ থেকে ১২০০, মরিয়ম ১১০০ থেকে ১৪০০ এবং মেডজুল ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এমএ//