রাজধানী

বনশ্রীতে স্কুলছাত্রী হত্যা

পালিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব থেকে গলা কেটে হত্যা!

বায়ান্ন প্রতিবেদন

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রীতে স্কুলপড়ুয়া তরুণী ফাতেমা আক্তার লিলিকে গলাকেটে হত্যার নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে গ্রেপ্তার মিলন মল্লিক। র‌্যাব-৩ এর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিলন হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে জানায়, সে নিহত ফাতেমা আক্তার লিলিকে প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছিল।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) ভোরে বাগেরহাট সদর থানার বড় সিংগা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় মো. মিলন মল্লিককে। বাগেরহাট সদর থানা এলাকায় র‌্যাব-৩ ও র‌্যাব-৬-এর যৌথ অভিযানে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-৩ জানায়, গ্রেপ্তার মিলন মল্লিকের সঙ্গে নিহত স্কুলছাত্রী লিলির সুসম্পর্ক ছিল। তবে এই সম্পর্কের সুবাদে সে বিভিন্ন সময় আকার-ইঙ্গিতে লিলির কাছে প্রেমের বহিঃপ্রকাশ করত এবং লিলির পরিবার বাসা থেকে গ্রামের বাড়িতে গেলে মিলন লিলিকে নিয়ে পালিয়ে যাবে বলে তাকে জানায়। পরবর্তী সময়ে সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটের দিকে বাসায় একা পেয়ে মিলন লিলিকে তার সঙ্গে পালিয়ে যেতে প্রস্তাব দেয়।

কিন্তু সেই প্রস্তাবে রাজি না হয়ে লিলি তাকে জানায়, রেস্তোরাঁ মালিকের মেয়ে হয়ে সে কর্মচারীর সঙ্গে যাবে না। সেই সঙ্গে লিলি মিলনকে ‘বামন হয়ে চাঁদের দিকে হাত বাড়াতে’ নিষেধ করে। নিজের এমন অনৈতিক প্রস্তাবে রাজি না হওয়ার কারণেই মিলন এই হত্যাকাণ্ড ঘটায়।

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের সত্যতা উদ্ঘাটনে আরও জিজ্ঞাসাবাদে করা হবে বলে জানিয়েছে র‌্যাব। সোমবার সকালে এক খুদেবার্তায় ফাতেমা আক্তার লিলি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সন্দেহভাজন রেস্তোরাঁ কর্মী মিলনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)। লিলির পরিবার খিলগাঁও থানায় মিলনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছে।

নিহত লিলি স্থানীয় রেডিয়েন্ট স্কুলের শিক্ষার্থী ছিল। সে হবিগঞ্জ জেলার লাখাই থানার বামৈন গ্রামের সজীব মিয়ার মেয়ে।

নিহতের বড় বোন সোভা বলেন, ‘আমাদের একটি খাবারের হোটেল আছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে হোটেলের কর্মচারী মিলন খাবার নেয়ার জন্য আমাদের বাসায় আসে। এত রাতে বাসায় আসা নিয়ে লিলি তার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়ায়। শনিবার দুপুরেও মিলন খাবার নিতে বাসায় এসেছিল। তবে তার আচরণ একটু অন্যরকম মনে হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘দুপুর দেড়টার দিকে জিমের উদ্দেশে বাসা থেকে বের হই। যাওয়ার সময় লিলিকে দরজা লক করে দিতে বলি। তখন ওই কর্মচারী মিলনও বাসা থেকে বের হয়েছিল। কিন্তু সে রাস্তা পার হয়ে চলে গিয়েছিল কি না, তা আমি দেখিনি। পরে বাসায় ফিরে দেখি দরজা খোলা। ভেতরে সব কিছু এলোমেলো। আমার বোনকে মেঝেতে পড়ে থাকতে দেখি। প্রথমে ভেবেছিলাম সে হয়তো কোনোভাবে আঘাত পেয়েছে। বাড়িওয়ালাকে ডাকলে তারা হাসপাতালে নিতে সহযোগিতা করেননি। পরে এক বন্ধুর মাধ্যমে লিলিকে বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে হিজাব খুলে দেখি তার গলায় রশি পেঁচানো এবং গলা কাটা।’ 

 

এসি//

 

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বনশ্রী #গলাকেটে হত্যা #চাঞ্চল্যকর তথ্য #গ্রেপ্তার