বাংলা চলচ্চিত্রে ‘নায়িকা’ শব্দটির সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে সুচিত্রা সেন। সৌন্দর্য, অভিনয় দক্ষতা আর রহস্যময় ব্যক্তিত্ব, সব মিলিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলা চলচিত্রের চিরকালের মহানায়িকা। আজ এই কিংবদন্তি অভিনেত্রীর দ্বাদশ মৃত্যুবার্ষিকী।
এই দিনটি উপলক্ষে সুচিত্রা সেন স্মৃতি সংরক্ষণ পরিষদ, পাবনা নায়িকার পৈতৃক বাড়িতে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ, আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
পাবনার জেলা প্রশাসক শাহেদ মোস্তফা জানান, সুচিত্রা সেনের স্মৃতিকে ঘিরে সরকারের একটি সুপরিকল্পিত উদ্যোগ রয়েছে। নায়িকার পৈতৃক বাড়িতে জরুরি সংস্কার করা হয়েছে। বাড়িটির সৌন্দর্য বাড়ানো হয়েছে। মহানায়িকার স্মৃতি ধরে রাখতে পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
চলচ্চিত্রে সুচিত্রা সেনের প্রথম অভিনয় ছিল শেষ কোথায়’ (১৯৫২) ছবিতে। তবে অজানা কারণে ছবিটি মুক্তি পায়নি। এরপর ১৯৫৩ সালে মহানায়ক উত্তম কুমারের সঙ্গে “সাড়ে চুয়াত্তর” ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি দর্শকদের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নেন। উত্তম-সূচিত্রা জুটি বাংলা চলচ্চিত্রে সৃষ্টি করে গেছেন অনন্য এক ইতিহাস।
১৯৭৮ সালের পর স্বেচ্ছায় অভিনয় জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেন সুচিত্রা সেন। প্রণয়পাশা ছবিতে অভিনয়ের পর হঠাৎ করেই তিনি লোকচক্ষুর আড়ালে চলে যান। দীর্ঘদিন পর্দার বাইরে থাকলেও তাঁর জনপ্রিয়তায় একটুও ভাটা পড়েনি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা কিংবদন্তিতে পরিণত হয়।
বাংলা চলচ্চিত্রের গৌরবময় ইতিহাসে বহু অভিনেতা ও অভিনেত্রী এসেছেন। কিন্তু সেই ভিড়ের মধ্যেও সুচিত্রা সেন ছিলেন সম্পূর্ণ আলাদা। মায়াভরা মুখ, সংযত অভিব্যক্তি আর নির্মল হাসির মধ্য দিয়ে তিনি বাংলা সিনেমায় রোমান্টিক ধারার এক নতুন ধাঁরা তৈরি করেছিলেন।
অভিনয় জগতে পা রাখার আগেই তাঁর বিয়ে হয়েছিল। এই সত্যটি তিনি লুকাননি, অকপটে স্বীকার করেই চলচ্চিত্রে নাম লিখিয়েছিলেন। তাঁর এই সততা সেই সময় তো বটেই, আজকের দিনেও প্রায় অকল্পনীয় সাহসিকতার উদাহরণ হয়ে আছে।
১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল বাংলাদেশের বৃহত্তর পাবনার সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি উপজেলার সেনভাঙাবাড়ি গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন এই মহানায়িকা। তাঁর নানা রজনীকান্ত সেনের বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। সূচিত্রার দাদার বাড়ি পাবনা জেলার সুজানগর উপজেলায়। ফলে তাঁর শৈশব ও কৈশোরের একটি বড় অংশ কেটেছে পাবনার গোপালপুর মহল্লার হিমসাগর লেনের একতলা পাকাবাড়িতে।
শুধু বাংলা নয়, হিন্দি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেও তিনি নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০১৪ সালের ১৭ জানুয়ারি কলকাতার বেলভিউ হাসপাতালে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই মহানায়িকা।
এক যুগ আগে মহানায়িকার এই প্রস্থান হলেও তিনি রেখে গেছেন অনেক স্মৃতি, ভালোবাসা আর বাংলা চলচ্চিত্রের অনন্য এক ইতিহাস।
এআর//