বিএনপি

‘নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ার জন্য আগামী নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ’

বায়ান্ন প্রতিবেদন

নিরাপদ ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যদি নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা না যায়, তাহলে শোক সমাবেশ ও শোকগাঁথার মতো আয়োজন চলতেই থাকবে। তবে গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে এক নতুন বিজয়গাঁথা রচনা করবে।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ পরিবার ও গুরুতর আহতদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, “বিএনপি দায়িত্বে থাকাকালীন সময় মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় গঠন করা হয়েছিল, যা একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের কল্যাণ দেখভাল করে। আগামী দিনে যদি বিএনপি সরকার গঠন করতে পারে, তাহলে জুলাই আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর কষ্ট কিছুটা লাঘবের চেষ্টা করা হবে। কারণ তারাও এক ধরনের মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আরেকটি বিভাগ খোলা হবে, যাতে এইসব মানুষদের দেখভাল করা যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনে ৩০ হাজার মানুষ আহত হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু মানুষ রয়েছেন, যাদের এক চোখ হারিয়েছে অথবা কারও দুই চোখই নষ্ট হয়েছে এবং পঙ্গু হয়েছেন অনেকে। জুলাইয়ে যেভাবে দেড় হাজারের মতো মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, সেটিকে আমরা গণহত্যা বলতে পারি।’

জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ এবং আহত হয়েছেন, তাদের সাহসিকতার কারণেই ফ্যাসিবাদী শক্তি শুধু ক্ষমতা থেকেই নয়, দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির চেয়ারম্যান।

তিনি বলেন, ‘সেসময় স্বাধীনতাকামী সব মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। ২০২৪ এর আন্দোলন কোনও ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা দলের নয়। অধিকার হারা মানুষের গণ-আন্দোলন। যারা স্বাধীনতা রক্ষার আন্দোলনকে দলীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে পরিণত করতে চায়, তাদের বিষয়ে স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকামী প্রিয় মানুষকে সজাগ থাকা জরুরি।’

গণআন্দোলনে আহতদের দুইভাবে ক্ষতিপূরণ দেয়ার চেষ্টা করতে পারেন জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এক- রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করা। দুই- মানুষের রাজনৈতিক এবং যোগ্যতা অনুযায়ী তার অর্থনীতি নিশ্চিত করা। হতাহতদের প্রতি রাষ্ট্রের অবশ্যই দায়িত্ব রয়েছে। জনগণের রায়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পর্যায়ক্রমে তা পূরণ করবে বিএনপি।’

নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন বিএনপির চেয়ারম্যান। নিরাপদ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়তে ব্যর্থ হলে এভাবেই শোক সমাবেশ আর শোকগাঁথা চলতে থাকবে। আর শোকসামেবশ বা শেকগাঁথা নয়, গণতন্ত্রকামী মানুষ আগামী বাংলাদেশে গণতন্ত্রের বিজয়গাঁথা রচনা করবে।’

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বাংলাদেশ #তারেক রহমান #বিএনপি #জাতীয় নির্বাচন