পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় প্রদেশ বেলুচিস্তানে একযোগে ১২টি স্থানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১০ সদস্য নিহত হয়েছেন। পাল্টা অভিযানে ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) পাকিস্তানের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য ডন এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর একাধিক সূত্র জানায়, ভারতের মদদপুষ্ট হিসেবে চিহ্নিত ‘ফিতনা আল হিন্দুস্তান’ গোষ্ঠীর সদস্যরা বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় একযোগে হামলা চালায়। তবে সময়োপযোগী ও সমন্বিত অভিযানের মাধ্যমে এসব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। এক সূত্র জানায়, অভিযানে গোষ্ঠীটির সঙ্গে যুক্ত ৩৭ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে।
আরেকটি নিরাপত্তা সূত্র জানায়, সন্ত্রাসীদের সঙ্গে সংঘর্ষে সেনা ও পুলিশের অন্তত ১০ সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
এদিকে রেডিও পাকিস্তানের খবরে বলা হয়েছে, বেলুচিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান এখনও চলমান রয়েছে। এসব অভিযানে আরও সন্ত্রাসীর হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে।
নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরও জানায়, গত ৪৮ ঘণ্টায় বেলুচিস্তানে মোট ৮৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার হারনাই ও পাঞ্জগুর জেলায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে অন্তত ৪১ জন নিহত হয়।
বেলুচিস্তানের মুখ্যমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমবিষয়ক বিশেষ সহকারী রিন্দ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানান, গত দুই দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৭০ জনের বেশি সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার পরপরই এসব হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার পর নিরাপত্তাজনিত কারণে কুয়েটা, সিবি ও চামান এলাকায় মোবাইল ফোন সেবা চালু থাকলেও ইন্টারনেট সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বেলুচিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী মীর জহুর আহমেদ বুলেদি সরকারি সম্পদের ক্ষতি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, সন্ত্রাসীরা কখনোই বেলুচিস্তানকে জিম্মি করতে পারবে না। জনগণের সমর্থনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
এসি//