রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে যাত্রীবাহী বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনায় রাজবাড়ী পৌর এলাকার একই পরিবারের তিন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। জানাজা শেষে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ভবানীপুর কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টায় ভবানীপুর লাল মিয়া সড়কে দুটি এবং শহীদ খুশি রেলওয়ে মাঠে একটি জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবসহ এলাকার বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন।
নিহতরা হলেন—রেহেনা আক্তার (৬১), তার ছেলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী আহনাফ তাহমিদ খান রায়হান (২৫) এবং রেহেনার নাতি তাজবীর (৭)। তারা সবাই রাজবাড়ী পৌরসভার ভবানীপুর এলাকার বাসিন্দা।
পরিবারের তিন সদস্যকে একসঙ্গে হারিয়ে এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না আর আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ। প্রতিবেশীরা সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করলেও শোকের গভীরতা যেন কিছুতেই কমছে না।
রায়হানের বন্ধুরা জানান, একই পরিবারের তিনজনকে হারানো অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। তারা নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের শক্তি দেওয়ার জন্য প্রার্থনা জানান।
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার বলেন, দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনও চলমান রয়েছে।
উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার (২৫ মার্চ) ঈদের ছুটি শেষে ঢাকায় ফেরার পথে দৌলতদিয়া ফেরিঘাট এলাকায় একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যায়। প্রায় ৬ ঘণ্টার পর নদী থেকে বাসটিকে তোলা হয়।
এমএ//