দক্ষিণ লেবাননে একটি ধর্মীয় ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে কয়েকজন ইসরাইলি সেনাকে ৩০ দিনের সামরিক কারাদণ্ড দিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। হাতুড়ি দিয়ে যিশু খ্রিস্টের একটি মূর্তি ভেঙে ফেলার পাশাপাশি ওই ঘটনার ছবি ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার পরই এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, ঘটনাটির ছবি অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী এবং পরে সংশ্লিষ্ট সেনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।
তবে এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন এবং ধর্মীয় স্থাপনায় হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর অতীত কর্মকাণ্ড নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, গাজায় চলমান অভিযানের সময় ইসরাইলি হামলায় কয়েকশ মসজিদ ও অন্তত তিনটি গির্জা ধ্বংস হলেও এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে দায়ী করা হয়নি। ফলে এই শাস্তিমূলক পদক্ষেপকে অনেকেই ‘প্রদর্শনমূলক ব্যবস্থা’ বা আইওয়াশ হিসেবে দেখছেন।

ঘটনাটি ঘটে দক্ষিণ লেবাননের খ্রিস্টান অধ্যুষিত গ্রাম দেবলে। সেখানে এক ইসরাইলি সেনাকে ক্রুশবিদ্ধ যিশু খ্রিস্টের মূর্তির ওপর হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করতে দেখা যায়। ওই ঘটনার একটি ছবি সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ছবিটির সত্যতা নিশ্চিত করে।
বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাটিতে জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাকে নিয়ে তদন্ত চলছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, এ ধরনের আচরণ সেনাবাহিনীর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের পরিপন্থি।
ইসরাইলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন সার ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুতর ও অপমানজনক বলে মন্তব্য করেছেন।
তিনি বলেন, ইসরাইল সব ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল একটি দেশ, কিন্তু একজন সেনার এই আচরণ দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।
এদিকে তুর্কি টুডে ও ইসরাইলি গণমাধ্যমের বরাতে জানা যায়, ইসরাইলি বাহিনী বর্তমানে দক্ষিণ লেবাননের প্রায় ৫৫টি শহর ও গ্রামে অবস্থান করছে। লিটানি নদীর দক্ষিণে একটি নির্ধারিত ‘ইয়েলো লাইন’ বরাবর নাকুরা, শাকরা, আইতা আল-শাব, বিন্ট জাবিল ও আদাইসেহ হয়ে উত্তর-পূর্বে খিয়াম পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা ইসরাইলি সামরিক অভিযানের সক্রিয় অঞ্চল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসি//