ভারতের প্রধান বিচারপতির এক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তুমুল আলোচনা, সমালোচনা ও ব্যঙ্গ। সেই বিতর্কের জের ধরেই অনলাইনে আত্মপ্রকাশ করেছে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ, যা দেশটির তরুণদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।
ঘটনার শুরু গেল শুক্রবার (১৫ ম এ)। সুপ্রিম কোর্টের এক শুনানিতে ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কিছু বেকার তরুণকে ইঙ্গিত করে ‘তেলাপোকার মতো’ মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, কিছু তরুণ কর্মসংস্থান না পেয়ে কিংবা পেশাগত জায়গা তৈরি করতে না পেরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, গণমাধ্যম বা অধিকারকর্মী পরিচয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমালোচনায় যুক্ত হচ্ছে।
পরবর্তীতে বিচারপতি সূর্য কান্ত নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, মন্তব্যটি আসলে ভুয়া ডিগ্রিধারীদের উদ্দেশে করা হয়েছিল, পুরো তরুণ সমাজকে লক্ষ্য করে নয়। তবে ততক্ষণে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত ভারতীয় তরুণ অভিজিৎ দিপকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দেন— “সব তেলাপোকা যদি একজোট হয়?” এরপরই তিনি ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ নামে একটি ওয়েবসাইট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পেজ চালু করেন।
ভারতের ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নামের আদলে গড়ে ওঠা এই ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ দ্রুত জনপ্রিয়তা পায়। কয়েক দিনের মধ্যেই এর ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। পাশাপাশি অনলাইনে সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমেও ব্যাপক সাড়া মিলেছে।
দলটিতে যোগদানের জন্য মজার ছলে কয়েকটি শর্তও দেওয়া হয়েছে— বেকার হতে হবে, অলস থাকতে হবে, সবসময় অনলাইনে সক্রিয় থাকতে হবে এবং অভিযোগ করার ‘পেশাদার দক্ষতা’ থাকতে হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভারতে দীর্ঘদিন ধরে বেড়ে চলা বেকারত্ব, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক বিভাজনের কারণে তরুণদের মধ্যে যে হতাশা তৈরি হয়েছে, এই ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ সেই অসন্তোষেরই প্রতিফলন।
উল্লেখ্য, ভারতে প্রতি বছর ৮০ লাখের বেশি শিক্ষার্থী স্নাতক হলেও তাদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ বলে জানা গেছে।
এমএ//