ধর্ম

স্ত্রীর দেনমোহর বাকী রেখে স্বামীর কোরবানি আদায় হবে কি!

হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান আত্মত্যাগ ও আল্লাহর প্রতি নিঃশর্ত আনুগত্যের স্মৃতিস্মরণে বিশ্বজুড়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদায় প্রতি বছর উদযাপিত হয় পবিত্র ঈদুল আজহা। এদিন মুসলিম উম্মাহ ইব্রাহিম (আ.)-এর মহান ত্যাগের স্মরণে পশু কোরবানি করে থাকে।

ইসলামের বিধান অনুযায়ী, নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব। ভিন্ন কোনো উদ্দেশ্যে যদি কোরবানি করা হলে তা আল্লাহর কাছে গৃহীত হবে না।

কোরবানির ঈদ ঘনিয়ে আসলে আমাদের সমাজের অনেক মুসলিম পরিবারের মধ্যেই স্ত্রীর দেনমোহর বাকি রেখে স্বামী কোরবানি দিতে পারবেন কি না এমন প্রশ্ন প্রায়ই তৈরি হয়।

ইসলামি আইন ও ফিকহ অনুযায়ী, স্ত্রীর দেনমোহর পরিশোধ না করা পর্যন্ত স্বামীর ওপর 'ঋণ' হিসেবে গন্য থাকে। তবে ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাব বাদায়েউস সানায়ে (২য় খণ্ড, ৩৯২ পৃষ্ঠা) ও রদ্দুল মুহতার (৯ম খণ্ড, ৪৫৩ পৃষ্ঠা)-এর বর্ণনা মতে, এটি একটি দুর্বল ঋণ বা ‘দাইনে জইফ’। 

যেহেতু এই ঋণ কোনো ব্যবসায়িক লেনদেন বা সম্পদের বিনিময়ে তৈরি হয়নি, তাই এটি স্বামীর বর্তমান সম্পদের ওপর সরাসরি কোনো বাধা তৈরি করে না। ফলে দেনমোহর বাকি থাকলেও শরীয়তের দৃষ্টিতে ব্যক্তি ধনী বা সম্পদশালী গণ্য হতে পারেন।

সহজ কথায়, দেনমোহর বাকি থাকা সত্ত্বেও স্বামীর কোরবানি দেওয়া জায়েজ। তবে তার ওপর কোরবানি ওয়াজিব হবে কি না, তা নির্ভর করে জিলহজের ১০ থেকে ১২ তারিখ পর্যন্ত তার আর্থিক অবস্থার ওপর।

কোরবানি ওয়াজিব হবে যদি দেনমোহর বাকি থাকা সত্ত্বেও যদি স্বামীর কাছে প্রয়োজনীয় খরচের অতিরিক্ত নিসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে তার ওপর কোরবানি করা ওয়াজিব।আর দেনমোহরের টাকা পরিশোধের হিসাব করার পর যদি স্বামীর কাছে নিসাব পরিমাণ উদ্বৃত্ত সম্পদ না থাকে, তবে কোরবানি না করলেও তিনি গুনাহগার হবেন না।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, দেনমোহর বাকি রেখে কোরবানি দিলে তা আদায় হয়ে যাবে। তবে সামর্থ্য থাকলে কোরবানির মতো মহিমান্বিত ইবাদতের পাশাপাশি স্ত্রীর এই হকটি দ্রুত পরিশোধ করা স্বামীর অন্যতম নৈতিক ও ধর্মীয় দায়িত্ব।

আর/আই

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #দেনমোহর