উত্তরাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ও পানি সংকট সমাধানে তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাতীয় অগ্রাধিকার বিবেচনায় নিয়ে এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে।
সোমবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে দেশের অর্থনীতি, কৃষি, শিক্ষা, জ্বালানি এবং সৃজনশীল অর্থনীতির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংসদ সদস্যসহ উত্তরাঞ্চলের মানুষের তিস্তা ও পানির সমস্যা নিয়ে উদ্বেগকে সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। এ সংকটের স্থায়ী সমাধানে কাজ করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি সরকার সবসময় কৃষি ও কৃষকের স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে এসেছে। ক্ষমতায় থাকাকালে মানুষের পানির অধিকার নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, বর্ষাকালের অতিরিক্ত পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে কৃষিকাজে ব্যবহারের লক্ষ্যেই পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিস্তা ব্যারেজ মহাপরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, নদী ও খালের নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে সরকার বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। অনেক এলাকায় বর্ষায় পানির আধিক্য থাকলেও শুষ্ক মৌসুমে কৃষকরা সেচের পানির সংকটে পড়েন। এই সমস্যা দূর করতে আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন ও পুনর্খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এরই মধ্যে গত তিন মাসে প্রায় ৯০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।
কৃষকদের জন্য নেওয়া উদ্যোগ তুলে ধরে সরকারপ্রধান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই ১৩ লাখ কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণের সুদসহ বকেয়া মওকুফ করা হয়েছে। কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দিতে বিশেষ কার্ড চালুর কাজ চলছে, যার মাধ্যমে প্রতি বছর কৃষকরা সরাসরি আড়াই হাজার টাকা সহায়তা পাবেন। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রায় ৪৩ লাখ কৃষকের কাছে এই কার্ড পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেট শুধু আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরির পরিকল্পনা। বিনিয়োগ বৃদ্ধি, উৎপাদন বাড়ানো এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে অর্থনীতিকে গতিশীল করতে চায় সরকার। উন্নয়ন বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সৃজনশীল অর্থনীতির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চলচ্চিত্র, থিয়েটার, সংগীত, ওটিটি, ডিজিটাল কনটেন্ট, গেমিং, ফ্যাশন ও সফটওয়্যারের মতো খাতগুলোকে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসা হবে। এসব খাতের মাধ্যমে কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।
ক্রীড়াঙ্গন নিয়েও পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশি-বিদেশি পর্যায়ে সাফল্য অর্জনকারী খেলোয়াড়দের জন্য প্রথমবারের মতো জাতীয় সম্মানী কাঠামো চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণদের খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে আগামী এক বছরের মধ্যে শিক্ষা কারিকুলামে খেলাধুলাকে আলাদা বিষয় হিসেবে যুক্ত করার কাজ চলছে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’র আদলে নতুন একটি ক্রীড়া কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।
প্রবাসী শ্রমবাজার সম্প্রসারণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দক্ষ জনশক্তি পাঠাতে নতুন নতুন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে সরকার। প্রবাসীদের সমস্যা দ্রুত সমাধানে ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর বিষয়েও কাজ চলছে।
জ্বালানি খাত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে জ্বালানি খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, শিক্ষিত, দক্ষ ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন জনগোষ্ঠীই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ। যুবসমাজের স্বপ্নের একটি স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
এসি//