ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি শুধু ইরানের রাজনীতিতেই নয়, প্রতিবেশী ইরাকেও গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও ধর্মীয় প্রভাব বিস্তার করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ।
আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, শিয়া-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ ইরাক গত কয়েক মাস ধরে একদিকে যুদ্ধের প্রভাব, অন্যদিকে নতুন প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের জটিল রাজনৈতিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান—উভয় পক্ষই দেশটিতে নিজেদের প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে। যুক্তরাষ্ট্র নজর রাখছে কে সরকার গঠন করবে, আর ইরান চাইছে তাদের ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান ও প্রভাব অক্ষুণ্ন থাকুক।
মাসগ্রেভের মতে, খামেনির জানাজার অংশ হিসেবে ইরাকে শোকমিছিল আয়োজনের সিদ্ধান্ত দুই দেশের গভীর রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সম্পর্কেরই প্রতিফলন।
তিনি বলেন, ইরাকের শিয়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কারণে খামেনি সেখানে শুধু একজন ধর্মীয় নেতা নন, একজন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হিসেবেও পরিচিত ছিলেন।
বিশ্লেষক আরও বলেন, শিয়া মুসলমানদের কাছে নাজাফ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় কেন্দ্র। তাই সেখানে জানাজার কর্মসূচি আয়োজনের মধ্যে রাজনৈতিক বার্তা যেমন রয়েছে, তেমনি এটি ইরানের সীমান্তের বাইরেও অভিন্ন শিয়া পরিচয়ের ভিত্তিতে প্রভাব ও সম্পর্ক গড়ে তোলার সক্ষমতারও ইঙ্গিত বহন করে।
উল্লেখ্য, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় শোক ও দাফন কর্মসূচি শনিবার (০৪ জুলাই) রাজধানী তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন তিনি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে আনা হয়। কফিনের ওপর রাখা ছিল তার ব্যবহৃত কালো পাগড়ি। একই স্থানে হামলায় নিহত তার পরিবারের সদস্যদের কফিনও রাখা হয়েছে। এর মধ্যে তার ১৪ মাস বয়সী নাতনির ছোট একটি কফিনও রয়েছে। খামেনিকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানীতে লাখো মানুষ সমবেত হয়েছেন।
এসি//