ডায়াবেটিস থাকলে মিষ্টি একেবারেই খাওয়া যাবে না এমন ধারণা অনেকেরই। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু মিষ্টি খেলেই রক্তে শর্করা বেড়ে যায়, বিষয়টা এমন নয়। কী খাচ্ছেন, কখন খাচ্ছেন এবং কীভাবে খাচ্ছেন এই তিনটি বিষয়ই রক্তে শর্করার ওঠানামায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সঠিক কিছু অভ্যাস অনুসরণ করলে পরিমিত পরিমাণে মিষ্টিও খাদ্যতালিকায় রাখা সম্ভব। জেনে নিন কোন নিয়মগুলো মানলে মিষ্টি খাওয়ার পর রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানো যেতে পারে।
সকালে মিষ্টি খাওয়াই তুলনামূলক ভালো
আমাদের শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম বিপাকক্রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দিনের শুরুতে শরীরে ইনসুলিন তুলনামূলক বেশি কার্যকর থাকে। তাই সকালে মিষ্টিজাতীয় খাবার খেলে শরীর তা সহজে ব্যবহার করতে পারে এবং রক্তে শর্করাও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে।
অন্যদিকে বিকেল বা রাতে মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করা দ্রুত বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়তে পারে। তাই রাতের খাবারের শেষে ডেজার্ট খাওয়ার অভ্যাস যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই ভালো।
খালি পেটে নয়, খাবারের পরে
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, মিষ্টি কখনোই খালি পেটে না খাওয়াই ভালো। আগে প্রোটিন, আঁশসমৃদ্ধ শাকসবজি এবং স্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার খেয়ে তারপর অল্প পরিমাণে মিষ্টি খেলে রক্তে শর্করার হঠাৎ বৃদ্ধি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
এই অভ্যাস শুধু ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নয়, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স, পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম (পিসিওএস) বা প্রি-ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্যও উপকারী হতে পারে।
স্বাস্থ্যকর ডেজার্ট বেছে নিন
প্রতিদিন অতিরিক্ত চিনি খাওয়ার অভ্যাস শুধু ডায়াবেটিস নয়, দীর্ঘমেয়াদি আরও নানা রোগের ঝুঁকি বাড়ায়। তাই ডেজার্ট নির্বাচনেও সচেতন হওয়া জরুরি।
চিনিযুক্ত মিষ্টির পরিবর্তে মৌসুমি ফল দিয়ে তৈরি ডেজার্ট খেতে পারেন। পরিশোধিত চিনির বদলে পরিমিত পরিমাণে খেজুর ব্যবহার করা যেতে পারে। টকদই, চিয়া সিড ও ফল দিয়ে তৈরি পুডিংও স্বাস্থ্যকর বিকল্প হতে পারে। আর চকোলেট খেতে চাইলে মিল্ক চকোলেটের বদলে ডার্ক চকোলেট বেছে নেওয়াই ভালো।
মনে রাখুন
মিষ্টি পুরোপুরি বাদ দেওয়ার চেয়ে পরিমিত পরিমাণে, সঠিক সময়ে এবং সঠিক উপায়ে খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।
পি/ডি