চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলে টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় অবৈধভাবে পাহাড় কাটা এবং ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসতি স্থাপন থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
বুধবার (৮ জুলাই) রাত সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস ও সার্বিক দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী সংসদের অধিবেশন শেষে চট্টগ্রামে এসে বায়েজিদ ও হাটহাজারীর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন এবং দুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন। পরে রাঙ্গামাটির বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ধস, জলাবদ্ধতা ও আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকায় পাহাড়ধসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে পাহাড়ে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে এবং কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, অবৈধভাবে গড়ে ওঠা পাহাড়ি বসতি এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসের কারণেই এমন দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে। তাই এ বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় তিন পার্বত্য জেলায় মোট এক হাজার ৩০০ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রাঙ্গামাটির জন্য বরাদ্দ রয়েছে ৫০০ মেট্রিক টন। পাশাপাশি প্রতিটি জেলার জন্য ২০ লাখ টাকা করে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে আরও বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বিভাগে ৩ হাজার ২০০টির বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শুধু রাঙ্গামাটিতেই ২৬০টি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে সমসংখ্যক আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে ২২টি আশ্রয়কেন্দ্রে প্রায় এক হাজার ৩০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন এবং বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কয়েকটি স্লুইসগেট কার্যকরভাবে পরিচালিত না হওয়ায় পানি নিষ্কাশনে সমস্যা হচ্ছে। এসব দ্রুত সংস্কার না করলে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সরকার দুর্যোগ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রশাসন, সেনাবাহিনী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করছেন। এ সময় দুর্যোগ মোকাবিলায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
পি/ডি