বলিউডের চিরসবুজ অভিনেত্রী রেখার স্টাইল আজও লাখো নারীর অনুপ্রেরণা। ৭০ পেরিয়েও তার সৌন্দর্য ও ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ হন ভক্তরা। বিশেষ করে সোনালি কাঞ্জিভরম শাড়ি, ভরাট সিঁথির সিঁদুর আর ঐতিহ্যবাহী সাজ এই লুকই যেন রেখার পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
শুধু রেখাই নন, নীতা আম্বানি, দীপিকা পাড়ুকোন ও বিদ্যা বালানের মতো তারকারাও নানা অনুষ্ঠানে কাঞ্জিভরম শাড়িতে নজর কেড়েছেন। সেই প্রভাব এখন বাঙালি বিয়েতেও স্পষ্ট। বিশেষ করে রিসেপশন বা বউভাতের সাজে অনেক কনেই বেছে নিচ্ছেন দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী এই সিল্ক শাড়ি।
কাঞ্জিভরম মূলত খাঁটি মালবেরি সিল্ক দিয়ে তৈরি হয়। এর বিশেষ ‘কোরভাই’ বুনন, সমৃদ্ধ জড়ির কাজ এবং ভারী গঠনই অন্য সব শাড়ি থেকে একে আলাদা করে। তবে বাজারে নকল কাঞ্জিভরমও কম নেই। তাই কেনার আগে কয়েকটি বিষয় ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি।
বুননের মান খেয়াল করুন
আসল কাঞ্জিভরমের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো ‘কোরভাই’ বুনন। এ শাড়ির বডি, পাড় ও আঁচল আলাদাভাবে বোনা হয়, পরে নিখুঁতভাবে জোড়া লাগানো হয়। তাই শাড়ির পাড় ও বডির সংযোগস্থলে সূক্ষ্ম বুননের চিহ্ন আছে কি না, তা দেখে নিন। প্রয়োজনে শাড়ির উল্টো দিকও পরীক্ষা করুন।
জড়ির আসল-নকল চিনুন
খাঁটি কাঞ্জিভরমে রূপার তারের ওপর সোনার প্রলেপ দেওয়া জড়ি ব্যবহার করা হয়। এ কারণেই এর দাম তুলনামূলক বেশি। জড়ির একটি সুতা হালকা করে ঘষলে ভেতরে লাল সুতা ও রূপার আভা দেখা যাবে। যদি সাদা সুতা, তামা বা প্লাস্টিকের মতো উপাদান দেখা যায়, তাহলে বুঝবেন সেটি আসল নয়।
শাড়ির ওজন যাচাই করুন
খাঁটি মালবেরি সিল্ক ও আসল জড়ির কারণে কাঞ্জিভরম সাধারণত বেশ ভারী হয়। একটি আসল কাঞ্জিভরমের ওজন প্রায় ৬০০ থেকে ৮০০ গ্রাম বা তারও বেশি হতে পারে। শাড়ি অস্বাভাবিক হালকা হলে তাতে সিন্থেটিক সুতা মেশানো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি কেনার সময় ‘Silk Mark’ ট্যাগ আছে কি না, সেটিও দেখে নিন। এটি শাড়ির মান যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি নির্দেশক।
সঠিকভাবে যাচাই করে কাঞ্জিভরম কিনলে আপনার বিয়ের সাজে যেমন যোগ হবে রাজকীয় আভিজাত্য, তেমনি দীর্ঘদিন ধরে শাড়িটি সংরক্ষণ করেও ব্যবহার করা যাবে।
পি/ডি