গাজায় নতুন করে যুদ্ধবিরতির আলোচনা ও ঘোষণার খবর এলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তা আশার সঞ্চার করেনি। দীর্ঘদিনের যুদ্ধ, অব্যাহত বিমান হামলা এবং বারবার অপূর্ণ প্রতিশ্রুতির কারণে অনেক বাসিন্দাই মনে করছেন, তাদের জীবনে বাস্তব কোনো পরিবর্তন আসবে না।
রোববার (০২ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নারী, পুরুষ, শিশু ও তরুণ—প্রায় সবাই নতুন যুদ্ধবিরতির ঘোষণায় আস্থা হারিয়েছেন।
তারা জানান, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হলেও এরপরও হামলা বন্ধ হয়নি।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়া এবং পর্যাপ্ত মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার কোনোটিই কার্যকর হয়নি।
তাদের মতে, শুধু নতুন ঘোষণা নয়, বাস্তবে নিরাপত্তা নিশ্চিত হওয়া, পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহ এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার পরিবেশ তৈরি হলেই কেবল মানুষের মধ্যে বিশ্বাস ফিরে আসবে।
অনেকেই জানান, যুদ্ধবিরতির খবর ছড়িয়ে পড়ার সময়ও চারদিকে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছিল। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বহু পরিবারকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ছুটতে হয়েছে। তাই নতুন কোনো সমঝোতা কার্যকর হবে—এমন আশা তারা করছেন না।
এদিকে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া ইসরাইলি সামরিক অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৩৫৬ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৪ হাজার ১৮৫ জন আহত হয়েছেন।
মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সর্বশেষ গেল ২৪ ঘণ্টায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত ছয়জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং ২৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া আগের হামলায় আহত আরও একজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরাইলি অভিযানে অন্তত ১ হাজার ২৩০ জন নিহত এবং ৪ হাজার ৭৬ জন আহত হয়েছেন।
এমএ//