আন্তর্জাতিক

ইরানবিরোধী সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটে কমান্ডার নিয়োগ দিল সৌদি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে নৌ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গঠিত সৌদি নেতৃত্বাধীন ১৪ দেশের সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোটের কমান্ডার নিয়োগ দিয়েছে রিয়াদ।

শুক্রবার (০৭ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ বিন সালেম আল-শেহরিকে জোটটির কমান্ডার হিসেবে নিয়োগের ঘোষণা দেয়। জোট গঠনের এক সপ্তাহ পর এই নিয়োগ দেওয়া হলো।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আল-শেহরি সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয়, যৌথ নৌ প্রতিরক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা, অন্যান্য সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোটের সঙ্গে সহযোগিতা এবং জোটের সনদ অনুযায়ী বিভিন্ন অভিযান তদারকির দায়িত্ব পালন করবেন।

এর আগে গেল ৩০ জুলাই সৌদি আরব, বাংলাদেশ, বাহরাইন, কাতার, কুয়েত, জর্ডান, মিসর, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইয়েমেন, সোমালিয়া, সুদান, জিবুতি ও কোমোরোস—এই ১৪টি দেশ যৌথভাবে বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠনের ঘোষণা দেয়।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আরও কয়েকটি দেশ জোটে যোগ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছে। এর মধ্যে কিছু দেশ ইতোমধ্যে যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে, আর বাকিরা প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে যোগ দেওয়ার আগে সনদ ও ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরের প্রস্তুতি নিচ্ছে।

বিবৃতিতে জোটটিকে একটি ‘উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক জোট’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে লক্ষ্য ও নীতির সঙ্গে একমত যেকোনো দেশের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে। নতুন সদস্যপদের আবেদনও গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

আগামী ১২ ও ১৩ আগস্ট জোটের একটি পরিকল্পনা বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে জোটের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত করা এবং নতুন সদস্য অন্তর্ভুক্তির প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।

এই জোটের মূল লক্ষ্য বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। ভারত মহাসাগর ও ভূমধ্যসাগরকে সংযুক্তকারী এই কৌশলগত নৌপথ বৈশ্বিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল ও ইরানকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা বাড়ার প্রেক্ষাপটে এই উদ্যোগকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। যুদ্ধ শুরুর আগে বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে যেত। বর্তমানে সেখানে নৌ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও অর্থনীতির ওপরও এর প্রভাব পড়ছে।

 

এমএ//

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #সৌদি আরব #বাব আল-মান্দেব #সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট