দেশজুড়ে

মিটার বসানোর আগেই ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল!

বায়ান্ন প্রতিবেদন

জামালপুরের মাদারগঞ্জে নতুন মিটার স্থাপনের আগেই গ্রাহকের নামে তৈরি হয়েছে ৬৯২ টাকার বিদ্যুৎ বিল। বিদ্যুৎ সংযোগই যেখানে চালু হয়নি, সেখানে ব্যবহারের বিল আসায় বিস্মিত হয়েছেন ভুক্তভোগী শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়।

মিটার স্থাপন ও বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরুর আগেই বিল তৈরির ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগের বিলিং ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।

নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তার বাসায় দুটি আবাসিক ও দুটি বাণিজ্যিক মিটার রয়েছে। এর বাইরে আরও একটি মিটার সংযোগের জন্য আবেদন করে তিনি নতুন মিটার স্থাপনের প্রস্তুতি হিসেবে একটি ওয়্যারিং বোর্ডও তৈরি করেন। তবে মিটার স্থাপন ও সংযোগ চালুর আগেই আগস্ট মাসের হিসাব দেখিয়ে নতুন মিটারের নামে ৬৯২ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে তার নামে মোট পাঁচটি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ এসেছে।

মিটার ও সংযোগ ছাড়াই বিল তৈরির বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যেও বিস্ময় দেখা দেয়। তাদের প্রশ্ন, বিদ্যুৎ সংযোগই যেখানে চালু হয়নি, সেখানে ব্যবহারের বিল কীভাবে তৈরি হলো? ঘটনাটি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ মোখলেছুর রহমান জানান, নিমাই সরকারের সঙ্গে কথা বলেই বিল তৈরি করা হয়েছে। তবে মিটার বা বিদ্যুৎ সংযোগ না থাকলেও বিল করা সম্ভব কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিষয়টি ভুল হয়েছে।

জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ওএন্ডএম) আবু সালেহ মো. নাঈম বলেন, সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারণে এ ধরনের সমস্যা হয়েছে। তবে মিটার ও সংযোগ না থাকা অবস্থায় গ্রাহকের নামে কীভাবে বিল তৈরি হলো, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

বিষয়টি নিয়ে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মাদারগঞ্জ জোনাল কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক সৈয়দা ফারজানা ইয়াসমিনও স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।

তিনি বলেন, মিটার বা সংযোগ ছাড়া কীভাবে বিল তৈরি হয়েছে, তা তার জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রণকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন তিনি।

 

এসি//

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন #বিদ্যুৎ বিল #জামালপুর #মিটার