নাটোরে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের আঙুলের একাংশ কেটে বিচ্ছিন্ন করার অভিযোগে পুলিশের এক কনস্টেবল শাকিল ও তাঁর স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আহত শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল থেকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নাটোর শহরের একটি এলাকায় এ ঘটনায় ঘটে। রাতেই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেন। আজ (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে গ্রেপ্তার ওই দুজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. ইফতেখায়ের আলম।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, গ্রেপ্তার কনস্টেবল নাটোরে কর্মরত। তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা ও ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকেন।
গত বুধবার রাতে ওই বাড়িতে পারিবারিকভাবে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। সেখানে ওই কনস্টেবলের চার বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে শিশুটির ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে বিষয়টি পারিবারিকভাবে মীমাংসা করা হয়।
মাহমুদুল হাসানের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকালে কনস্টেবল শাকিল তাঁর ছেলেকে ডেকে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে শাকিলের স্ত্রীও উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে শিশুটির ডান হাতের একটি আঙুল কেটে দেওয়া হয়।
তাঁর স্ত্রী বিষয়টি প্রতিবেশীদের জানান এবং শিশুটিকে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহীতে পাঠানো হয়।
এদিকে ঘটনার পর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে মৌখিকভাবে কনস্টেবল শাকিল মৌখিক অভিযোগ করেন বলে জানা গেছে। তার অভিযোগ, ওই শিশু তাঁর মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছে। পরে তারা মেয়েকে নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে যান।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতে পুলিশ ওই বাসায় যায়। বাসায় তালা দেওয়া থাকায় পুলিশ তা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। সেখানে মেঝে ও খাটের পাটাতনে রক্তের দাগ দেখতে পায়। মেঝের এক পাশে বিচ্ছিন্ন আঙুলের একটি অংশও পাওয়া যায়।
নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান জানান, আসামীরা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পনের পর তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।
নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মাহবুর রহমান বলেন, ডান হাতের একটি আঙুলের কিছু অংশ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রামেকে পাঠানো হয়েছে।
আই/এ