গাজা ভূখণ্ডে প্রশাসনিক ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া তদারকির জন্য একটি নতুন প্রযুক্তিবিদ (টেকনোক্রাটিক) কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছে হোয়াইট হাউস। এই উদ্যোগটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত ২০ দফা পরিকল্পনার অংশ, যার উদ্দেশ্য গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধের অবসান ঘটানো।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) এ তথ্য জানিয়েছে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গাজার জাতীয় প্রশাসন কমিটি (এনসিএজিসি)-এর নেতৃত্ব দেবেন ড. আলি শা’আথ। তিনি এর আগে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের উপমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, ড. শা’আথ গাজায় জনসেবা পুনরায় চালু, বেসামরিক প্রতিষ্ঠান পুনর্গঠন এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতের একটি স্থিতিশীল শাসন কাঠামোর ভিত্তি তৈরির দায়িত্বও তার ওপর থাকবে।
গাজার প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তার জন্য একটি নির্বাহী বোর্ডও গঠন করা হয়েছে। এতে যুক্ত করা হয়েছে তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান, ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিমন্ত্রী রিম আল-হাশিমি, কাতারের কূটনীতিক আলি আল-থাওয়াদি এবং মিসরের গোয়েন্দা প্রধান হাসান রাশাদসহ আরও কয়েকজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বকে।
শান্তি প্রক্রিয়া তদারকির জন্য আলাদা একটি “বোর্ড অব পিস” গঠন করা হয়েছে, যার নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেই। এই বোর্ডে রয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, স্টিভ উইটকফ, জ্যারেড কুশনার, টনি ব্লেয়ার, ব্যবসায়ী মার্ক রোয়ান, বিশ্বব্যাংকের প্রধান অজয় বাঙ্গা এবং রাজনৈতিক উপদেষ্টা রবার্ট গ্যাব্রিয়েল।
এই ঘোষণার আগে ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ জানিয়েছিলেন, গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ শুরু হয়েছে। এই ধাপে মূল গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে নিরস্ত্রীকরণ, প্রযুক্তিবিদ-ভিত্তিক প্রশাসন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে।
ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, ইসরাইল বারবার যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করেছে। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার মানুষ। যুদ্ধবিরতির পরও গাজা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, আরও প্রায় ৪৫০ জন নিহত এবং ১,২০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছে।
এমএ//