সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে অগ্রগতি না থাকায় তদন্ত কর্মকর্তাকে শোকজ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল না করার কারণ ব্যাখ্যা করতে তাকে সশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সোমবার (০৯ ফেব্রুয়ারি) মামলার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এই আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম রাসেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিন মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে তদন্ত কর্মকর্তা নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল না করায় আদালত অসন্তোষ প্রকাশ করেন। পরে আগামী ১ এপ্রিল নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়। এর মাধ্যমে আলোচিত এই মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময়সীমা মোট ১২৪ বার পেছানো হলো।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের নিজ বাসায় মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি খুন হন। ঘটনার পর নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত দায়িত্বে ছিলেন থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই)। চার দিন পর তদন্তভার দেয়া হয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি)। তবে দীর্ঘ সময় তদন্ত করেও ডিবি কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল মামলার তদন্ত র্যা বের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর হাইকোর্ট মামলাটির তদন্তে গতি আনতে অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে ছয় মাসের মধ্যে তদন্ত শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয় এবং র্যাফবকে তদন্ত থেকে সরিয়ে নেয়ার আদেশ দেয়া হয়।
এর ধারাবাহিকতায় গত বছরের ১৭ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়।
মামলায় মোট আটজনকে আসামি করা হয়েছে। তারা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাসার দুই নিরাপত্তাকর্মী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের পরিচিত তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর জামিনে রয়েছেন, পলাশ রুদ্র পাল জামিনে বেরিয়ে পলাতক এবং বাকি আসামিরা কারাগারে আছেন।
এসি//