রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে এমন খাবার চাই যা দ্রুত শক্তি জোগাবে, পেটের জন্য হালকা হবে এবং প্রস্তুত করাও সহজ। এই বিবেচনায় বহু বছর ধরে বাঙালির ঘরে ঘরে জনপ্রিয় একটি পদ হলো দই-চিড়া। সাদামাটা উপকরণে তৈরি এই খাবারটি ইফতার টেবিলে যেমন স্বস্তি আনে, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ।
ইফতারে অতিরিক্ত তেল-চর্বিযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। সে তুলনায় দই-চিড়া হালকা ও সুষম একটি বিকল্প। পুষ্টিবিদদের মতে, চিড়ায় রয়েছে কার্বোহাইড্রেট, যা সারাদিনের রোজার পর দ্রুত শক্তি জোগায়। অন্যদিকে দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়াম ও উপকারী ব্যাকটেরিয়া, যা হজমে সহায়তা করে। গরমের দিনে রমজান পড়লে দই-চিড়া শরীর ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে বলেও অনেকে মনে করেন।
চিড়া, দই ও চিনি বা গুড় দিয়ে সহজেই এটি তৈরি করা যায়। অনেকেই এতে কলা, আপেল, খেজুর, কিসমিস বা বাদাম যোগ করেন, ফলে স্বাদ ও পুষ্টিগুণ আরও বৃদ্ধি পায়। ব্যস্ত জীবনে দ্রুত প্রস্তুত করা যায় বলেও এটি জনপ্রিয়।
নিত্যপণ্যের দামের ঊর্ধ্বগতির সময়ে দই-চিড়া তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী একটি ইফতার। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই এর প্রচলন রয়েছে।
দই-চিড়া কেবল একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতির অংশ। সহজ স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও কম খরচ—এই তিন কারণে রমজানে ইফতার টেবিলে দই-চিড়া এখনো নির্ভরযোগ্য পছন্দ হয়ে আছে।
এমএ//