রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বিক্ষুব্ধ জনতা। শুক্রবার (২২ মে) জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে এলাকাজুড়ে তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়।
বিক্ষোভকারীরা গোলচত্বর অবরোধ করলে ওই এলাকায় যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এ সময় ‘জাস্টিস ফর রামিসা’, ‘ফাঁসি চাই’সহ বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
প্রতিবাদকারীদের দাবি, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। তাদের অভিযোগ, বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণেই এ ধরনের নৃশংস অপরাধ বারবার ঘটছে। কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের ফাঁসি কার্যকরের দাবিও জানান।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতেও একই স্থানে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়।
উল্লেখ্য, গেল মঙ্গলবার সকালে পল্লবী এলাকার একটি ফ্ল্যাটের খাটের নিচে শিশু রামিসার মাথা বিহীন দেহ খুঁজে পায় পুলিশ। এরপর একই ফ্ল্যাটের বাথরুমের বালতি থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি উদ্ধার করা হয়। এই হৃদয়বিদারক ও নির্মম ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার দিন সকালে রামিসা নিজের বাসা থেকে বের হলে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেয়। সেখানে তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় এবং প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে মরদেহ লুকিয়ে ফেলার চেষ্টা করা হয়।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ধরতে পারলেও, অভিযুক্ত সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। পুলিশ প্রথমে তার স্ত্রীকে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং পরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল অপরাধী সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের জানায়, গ্রেপ্তারের পর আদালতে হাজির করা হলে সোহেল রানা শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে।
এমএ//