পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলায় ঘরে প্রবেশ করে এক গৃহবধূকে মারধর করে দাঁত ভেঙে ফেলা, মাথার চুল ব্লেড দিয়ে কেটে দেয়া এবং যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থানায় ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম (৩৯) একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ রাতেই অভিযান চালিয়ে তিন জনকে গ্রেপ্তার করে। দেবীগঞ্জ থানার সেকেন্ড অফিসার প্রভাস চন্দ্র রায় আজ (১৩ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্পের বাসিন্দা ভুক্তভোগী কনিকা রায় ওরফে কুলসুম বেগম গত ১২ জুন হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে কুলসুম বেগম নাম ধারণ করেন। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর দারগালী নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করে একই আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে দাম্পত্য জীবন শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ধর্ম পরিবর্তন ও বিয়ে মেনে নিতে না পেরে ঘটনার দিন সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে অভিযুক্ত আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি ও লোহার রড নিয়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ঘরে প্রবেশ করে। প্রথমে গালিগালাজ করে কুলসুমের কাছ থেকে তাঁর ধর্মান্তরিত হওয়া ও বিবাহের হলফনামা (অ্যাফিডেভিট) কেড়ে নিয়ে ছিঁড়ে ফেলে এবং তাঁর ব্যবহৃত একটি স্মার্টফোন ছিনিয়ে নেয়।
পরে অভিযুক্ত রাকিব ইসলাম লোহার রড দিয়ে কুলসুমের মুখে আঘাত করলে তাঁর একটি দাঁত ভেঙে যায়। নির্যাতন চলাকালে সোহেল রানা ব্লেড দিয়ে ওই নারীর মাথার অর্ধেক চুল কেটে দেয়। এবং কুলসুমের হাত-পা চেপে ধরে রাকিব ইসলাম যৌনাঙ্গে মরিচের গুঁড়া ছিটিয়ে দেয়। যন্ত্রণায় ওই নারী চিৎকার করতে থাকলে তাঁর স্বামী বাঁচাতে এগিয়ে এলে তাঁকেও মারধর করা হয়।
একই সাথে হামলাকারীরা ঘরে থাকা ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল ভাঙচুর ও লুটপাট করে। একই সাথে নগদ ৮৫ হাজার টাকা এবং ৬৬ হাজার টাকা মূল্যের ১১ মণ বাদাম চুরি করে নিয়ে যায়। একই সাথে ৩টি ফাঁকা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে কুলসুমের স্বাক্ষর করে নেয়। পরে ভুক্তভোগী ও তাঁর স্বামীর চিৎকার শুনে স্থানীয় প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় কুলসুম বেগমকে দেবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আসামী করে দেবীগঞ্জ থানায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।
মামলার অভিযুক্তরা হলেন- চর সোনাপোতা আশ্রয়ণ প্রকল্প এলাকার রাকিব ইসলাম (২৬), সোহেল রানা (২০), সাহেল খাতুন (৪০), সমসের আলী (২৮), আবুল হক (৫০) ও সুজন ইসলাম (১৯)। এছাড়া ৬ থেকে ৭জনকে অজ্ঞাত আসামী করা হয়েছে।
সেকেন্ড অফিসার এসআই প্রভাস চন্দ্র রায় বলেন, মামলা দায়েরের পর অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ৩ আসামীকে বিভিন্ন স্থান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। একই সাথে পলাতক অপর অভিযুক্ত আসামীদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলমান রয়েছে।
আই/এ