শান্তিতে নোবেল পুরস্কার না পেয়ে আবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। চলতি বছরের পুরস্কারজয়ী নাভানেথেম ‘নাভি’ পিল্লাইয়ের নাম কখনো শোনেননি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। একই সঙ্গে তার দাবি, পুরস্কারটি যুক্তরাষ্ট্রের পাওয়া উচিত ছিল এবং দেশটির প্রেসিডেন্ট হিসেবে সেটি তারই প্রাপ্য ছিল।
গত শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সিরাকিউজে সমর্থকদের এক সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন ট্রাম্প। এ সময় নোবেল শান্তি পুরস্কারের মর্যাদা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
ট্রাম্প বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কার চরমপন্থী মতাদর্শে বিশ্বাসী এমন একদল মানুষের কারণে চিরতরে তার মর্যাদা হারিয়েছে। তারা গণতন্ত্রবিরোধী ও প্রকৃতপক্ষে সভ্যতার শত্রু।’
তিনি আরও বলেন, ‘নোবেল শান্তি পুরস্কারটি দেওয়া উচিত ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে, আর সেই পুরস্কারের প্রতিনিধিত্ব করার কথা ছিল আপনাদের প্রেসিডেন্ট হিসেবে আমাকে।’
পুরস্কারজয়ী নাভি পিল্লাই সম্পর্কে নিজের অনাগ্রহ প্রকাশ করে ট্রাম্প বলেন, তিনি তার নাম কখনো শোনেননি। অন্যদিকে, পিল্লাইকে ‘রহস্যময় ব্যক্তি’ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এমন কী কাজ করেছেন তিনি, যার জন্য এই স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
নোবেল শান্তি পুরস্কার না পাওয়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র ভুলে যাবে না বলেও মন্তব্য করেন ট্রাম্প।
তার দাবি, বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতের অবসান ঘটানোসহ নানা উদ্যোগ নেওয়ার পরও তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নরওয়ের জন্য দীর্ঘস্থায়ী কলঙ্ক হয়ে থাকবে।

এর আগে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টেও পুরস্কার না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
সেখানে তিনি দাবি করেন, আটটি যুদ্ধের অবসান ঘটিয়েছেন এবং আরও দুটি সংঘাতের সমাধানের কাছাকাছি পৌঁছেছেন।
নিজের সাফল্যের বিবরণ দিতে গিয়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করা এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি ভেনেজুয়েলার পরিস্থিতি নিয়েও নিজের সাফল্যের দাবি করেন তিনি। দেশটির একজন কর্তৃত্ববাদী নেতাকে আটক করার বিষয়টিও ওই পোস্টে তুলে ধরেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ট্রাম্পের দাবি, এতসব উদ্যোগের পরও তাকে কিংবা যুক্তরাষ্ট্রকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। তবে তার উল্লেখ করা আটটি সংঘাতের অবসান ঘটানোর দাবির সবকটির সঙ্গে বাস্তব পরিস্থিতির মিল নেই। কয়েকটি সংঘাতের নিষ্পত্তি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। এ ছাড়া বিভিন্ন বিরোধ নিরসনে সংশ্লিষ্ট দেশ ও অন্যান্য পক্ষেরও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
প্রায় ১০ মিনিটের বক্তব্যেও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিজের প্রাপ্য ছিল বলে দাবি করেন ট্রাম্প। তাকে পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে নরওয়ে ও সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীদের জন্য বিব্রতকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। বিভিন্ন সময়ে নিজেকে এ পুরস্কারের যোগ্য দাবিদার হিসেবে তুলে ধরেছেন তিনি। পুরস্কার নিয়ে নরওয়ের নেতাদের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়টিও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। দেশটির অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রধানমন্ত্রীর কাছে বার্তা পাঠানোর ঘটনাও এ নিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: ওয়াশিংটন পোস্ট
এসি//