একটি একটি করে সাবুদানা বসিয়ে নিপুণ হাতে সাজানো হয়েছে দুর্গা প্রতিমা। প্রচলিত সাজসজ্জার বাইরে ব্যতিক্রমী এই শিল্পকর্ম ইতোমধ্যে আকর্ষণ তৈরি করেছে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের মধ্যে। দুর্গাপূজায় প্রতিমা সজ্জায় নতুনত্ব আনার ধারাবাহিকতায় এবার নাটোরে দেখা মিলেছে সাবুদানায় সাজানো দুর্গা প্রতিমার।
নাটোর শহরের বড়হরিশপুরের চেয়ারম্যান রোডের ঘোষপাড়া দুর্গা মন্দিরে তৈরি করা হয়েছে ব্যতিক্রমী এই প্রতিমা। মাটির কাজ শেষ হওয়ার পর প্রতিমার শরীরে একে একে সাবুদানা বসিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে নান্দনিক কারুকাজ। দুর্গা, লক্ষ্মী, সরস্বতী, গণেশ ও কার্তিকসহ মোট আটটি প্রতিমাই সাজানো হয়েছে সাবুদানা দিয়ে। শিল্পীদের সৃজনশীলতায় তৈরি এই সাজ ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে প্রতিমার সৌন্দর্যে।
প্রতিমা সজ্জায় এমন অভিনব আয়োজন দেখতে মন্দিরে আগ্রহ বাড়ছে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের। তাদের কাছে প্রচলিত সাজের বাইরে সাবুদানা দিয়ে প্রতিমা সাজানোর বিষয়টি এক নতুন অভিজ্ঞতা। ধর্মীয় আবহের সঙ্গে শিল্পের এমন মেলবন্ধন দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।
প্রতিমার কারিগরেরা জানান, দেবী দুর্গার প্রতি ভক্তি প্রকাশের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করতেই ভিন্নধর্মী এই সাজের পরিকল্পনা করেছেন তারা। প্রতিমা সজ্জায় নিজেদের সৃজনশীলতা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। দর্শনার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পেয়ে তারাও আনন্দিত।
শ্রীধরপুর ঘোষপাড়া সার্বজনীন দুর্গা মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক বিধান চন্দ্র গণমাধ্যমকে জানান, আটটি প্রতিমা সাজাতে মোট ৮৫ কেজি সাবুদানা প্রয়োজন হচ্ছে। প্রতিমা কারিগরদের পারিশ্রমিক বাবদ ব্যয় হবে ৪৫ হাজার টাকা। অন্যান্য খরচসহ পুরো আয়োজন সম্পন্ন করতে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা লাগছে।
নাটোর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রসাদ কুমার বাচ্চা জানান, এবার নাটোরে ভুট্টা ও সাবুদানা দিয়ে দুটি ব্যতিক্রমী দুর্গা প্রতিমা তৈরি করা হচ্ছে। এসব প্রতিমা দেখতে শুধু নাটোর নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও মানুষ আসবেন বলে আশা করছে পূজা উদযাপন পরিষদ।
প্রতিমা সজ্জায় নতুনত্বের এই প্রয়াস নাটোরের দুর্গাপূজায় যোগ করেছে ভিন্ন মাত্রা। ধর্মীয় বিশ্বাস, শিল্পীর দক্ষতা ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে সাবুদানায় সাজানো দুর্গা প্রতিমা এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদেরও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠছে।
এসি//