সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলায় কৃষক বদিউজ্জামান হত্যা মামলায় ১৪ বছর পর রায় ঘোষণা করেছে আদালত। রায়ে ১০ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। অনাদায়ে তাদের আরও তিন মাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) দুপুরে সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক লায়লা শারমিন এই রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর শামসুজ্জোহা শাহান শাহ জানান, রায় ঘোষণার সময় আদালতে ৬ জন আসামি উপস্থিত ছিলেন। মামলার বাকি ৪ জন এখনও পলাতক রয়েছেন।
যাদের বিরুদ্ধে এ রায় দেওয়া হয়েছে তারা হলেন— মনির হোসেন, আনোয়ারা বেগম, সাহেব উদ্দিন, সোহেল রানা, শাহজাহান মণ্ডল, শফিকুল ইসলাম, আবু সাঈদ, এরশাদ শেখ, রমজান আলী এবং আবুল কালাম আজাদ।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে বদিউজ্জামান নিজ গ্রামের দবির মণ্ডলের ছেলে আলমের কাছ থেকে তিন শতক জমি আইনগতভাবে ক্রয় করেন। পরে ওই জমিতে প্রতিবেশী আবু সাঈদ ঘর তুলে দখলে নেন। জমি ছাড়তে বলায় বদিউজ্জামানকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
এদিকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বদিউজ্জামান ও আব্দুস ছাত্তার মেম্বার পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ওই নির্বাচনে আব্দুস ছাত্তার পরাজিত হলে তিনি এর জন্য বদিউজ্জামানকে দায়ী করেন। জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও নির্বাচনী ক্ষোভ মিলিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১১ সালের ২৪ জুন বদিউজ্জামান জমির কাগজপত্র সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি। পরদিন সকালে ময়নাকান্দি এলাকার একটি ক্ষেত থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পর নিহতের স্ত্রী রতনা বেগম ওরফে সুফিয়া কামারখন্দ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ ২০১২ সালের জানুয়ারিতে ১০ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। সাক্ষ্য-প্রমাণ ও দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আজ এই মামলার রায় ঘোষণা করলেন।
এমএ//