আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশজুড়ে ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে নির্বাচনী আমেজ। এবার মোট ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৯ জন ভোটার ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫৪ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ৫২৫ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২২০ জন।
ভোটের দিন প্রার্থী, পোলিং এজেন্ট ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ভোটারদেরও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের পর কী করা যাবে আর কী করা যাবে না— তা জানা জরুরি।
ভোটারদের সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে উপস্থিত হতে হবে। তবে বিকেল ৪টার আগে লাইনে দাঁড়ালে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে।
কেন্দ্রে প্রবেশের সময় পার্স ছাড়া অন্য কোনো ব্যাগ নেওয়া যাবে না। মোবাইল ফোন সঙ্গে রাখা যাবে এবং সাধারণ স্থানে ছবি তোলার সুযোগ থাকলেও গোপন কক্ষ বা মার্কিং প্লেসে মোবাইল ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শালীন পোশাক পরে ভোট দিতে যাওয়া যাবে। কেউ নেকাব পরে গেলে পরিচয় নিশ্চিত করতে পোলিং এজেন্টের অনুরোধে একবারের জন্য মুখমণ্ডল দেখাতে হতে পারে। অস্ত্র, দাহ্য পদার্থ বা বিপজ্জনক কোনো বস্তু নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
ভোট দিতে এনআইডি কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক নয়, তবে থাকলে শনাক্তকরণ সহজ হয়। নাম ও ক্রমিক নম্বর যাচাই শেষে পোলিং অফিসার ভোটারের আঙুলে অমোচনীয় কালি দেবেন। এরপর সংসদ নির্বাচন ও গণভোট—এই দুইয়ের জন্য আলাদা দুটি ব্যালট পেপার দেওয়া হবে।
ব্যালট নেওয়ার পর পেছনে অফিসিয়াল সিল ও প্রিসাইডিং অফিসারের স্বাক্ষর আছে কি না তা দেখে নিতে হবে। তারপর নির্ধারিত গোপন কক্ষে গিয়ে পছন্দের প্রতীকে রাবার স্ট্যাম্প দিয়ে স্পষ্ট সিল দিতে হবে। গণভোটের ক্ষেত্রে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ অপশনে সিল দিতে হবে।
সিল দেওয়ার পর ব্যালট এমনভাবে ভাঁজ করতে হবে, যাতে কালি অন্য প্রতীকে না লাগে—লম্বালম্বিভাবে ভাঁজ করাই নিরাপদ। পরে নির্ধারিত স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ব্যালট ফেলতে হবে।
ভোট দেওয়া শেষ হলে অযথা কেন্দ্রে অবস্থান না করে দ্রুত বের হয়ে যাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। নির্বাচন কমিশন আশা করছে, সবাই নিয়ম মেনে শান্তিপূর্ণভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।
এমএ//