বিশ্বে সোমবার স্বর্ণ, তেলের দাম ও শেয়ারবাজারে বড় পতন হয়েছে। একারনে গেল সপ্তাহে শুরু হওয়া বাজারে অস্থিরতাতা আরো বেড়েছে।
গত সপ্তাহে রেকর্ড গড়ে স্বর্ণের দাম ছিলো ৫ হাজার ৫৯৫ ডলার। আর রুপার দাম ছিল ১২১ ডলার। গত শুক্রবার ডলারের বিপরীতে এসব ধাতুগুলোর দাম ধস নামে। একারনে স্বর্ণের দাম ১২ শতাংশ এবং রুপার দাম ৩০ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।
সোমবার এসব ধাতুর দাম আরও কমেছে। স্বর্ণের দাম এদিন ১০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। দাম হয়েছে ৪ হাজার ৪০৩ ডলারের কম। রুপার দামও সাময়িকভাবে প্রায় ১২ শতাংশ কমে যায়। এই ধাতূর দাম হয় ৭৫ ডলার। আর্থিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান পেপারস্টোনের মাইকেল ব্রাউন জানিয়েছেন, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে বাজার দ্রুত চাঙ্গা হয়েছিল। তেমনিভাবে পতনও দ্রুত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা এখন জানতে চাচ্ছেন, এরপর কী হবে।
ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, কোম্পানিগুলোর আয়ের হিসাব, মার্কিন সুদের হারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং প্রযুক্তি খাতের অতি-মূল্যায়নের কারনে এমন হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও প্রভাব পড়েছে তেলের দাম কমে যাওয়া, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনা কমে যাওয়ার খবরে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তেহরানের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর আশা জানানোর পর অপরিশোধিত তেলের প্রধান দুটি চুক্তির মূল্য পাঁচ শতাংশেরও বেশি কমে যায়।
অন্যদিকে ট্রাম্প মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের (ফেড)-এর প্রধান হিসেবে কেভিন ওয়ারশকে মনোনীত করার ঘোষণা দিয়েছেন। এ কারনে ডলার শক্তিশালী হচ্ছে। এতে তেলের দাম কমছে। ব্যবাসায়ীদের ধারণা ওয়ারশ মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলায় বেশ কঠোর হলে ডলার আরও শক্তিশালী হবে। ফেডের বর্তমান চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েলকে নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে গত সপ্তাহে ডলারের দাম বেশ কম ছিল। কিন্তু ওয়ারশকে ফেডের প্রধান করার খবরে ডলাররে মান অনেকটা লাফিয়ে বেড়েছে।
আমেরিকান বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা কোম্পানি ইনভেসকোর ব্রায়ান লেভিট জানিয়েছেন, ওয়ারশ সুদের হার কমানোর চান। তাঁর দর্শন হলো উৎপাদনশীলতা মুদ্রাস্ফীতি না বাড়িয়েই মার্কিন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করতে পারে।