বৈশাখের রোদের জ্বালা যেন শরীরের ভেতরটাকেও পুড়িয়ে দিচ্ছে। রাস্তায় বেরোলেই গায়ে লেগে থাকা ক্লান্তি , মাথা ঘোরা , পানিশূন্যতা সব মিলিয়ে নাজেহাল দশা। এমন সময় যেন এক সবুজ নিরামিষ সবজি নিঃশব্দে রক্ষাকবচ হয়ে উঠেছে শরীরের জন্য আর সেটা হলো শসা। একদিকে যেমন মুখরোচক , তেমনি স্বাস্থ্যকরও। পুষ্টিবিদ থেকে চিকিৎসক সবারই মুখে একই কথা-গরমে শসা খাওয়া শুরু করুন। কিন্তু শসার উপকারিতা কি শুধু পানির ঘাটতি পূরণেই সীমাবদ্ধ? মোটেই নয়। এই সবজির প্রতিটি কামড়ের মধ্যে লুকিয়ে আছে একাধিক স্বাস্থ্যরহস্য। শসার সাতটি গুণ কিভাবে শরীরে প্রভাব ফেলে জেনে নেয়া যাক।
পেট ঠান্ডা , শরীরও ঠান্ডা
শসার গায়ে যে হিমশীতল ছোঁয়া , তার কারণই তো এর ৯৫% জলীয় উপাদান। গ্রীষ্মে যখন শরীর তাপে ঝলসে উঠছে , তখন শসা কাজ করে এক প্রাকৃতিক কুলিং এজেন্ট হিসেবে। নিয়মিত খেলে পানিশূন্যতা কমে , হজম ঠিক থাকে এবং গ্যাস-অম্বলের সমস্যাও দূরে সরে যায়।
হাড়ের অজানা বন্ধু
ভিটামিন K–এর প্রাচুর্যে ভরপুর শসা হাড়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় আশ্চর্য উপকারী। এটি শরীরে ক্যালসিয়ামের শোষণ বাড়িয়ে হাড়কে করে আরও দৃঢ় ও মজবুত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যে হাড় দুর্বলতা দেখা দেয় , শসা তার বিরুদ্ধেই কাজ করে নীরবে।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য স্বর্গীয় স্ন্যাকস
কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে শসা রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না। ফলে সন্ধ্যার জলখাবারে ভাজাভুজির বদলে শসা-মুড়ি খাওয়া হতে পারে সুস্থতার এক নতুন অভ্যাস। ওজনও বাড়বে না , আবার ব্লাড সুগার থাকবে নিয়ন্ত্রণে।
ওজন কমাতে
শসা মানেই ক্যালোরিলাইট , কিন্তু ফাইবারে রিচ। এক কাপ শসা কুচিতে মাত্র ১৬ ক্যালোরি। পেট ভরিয়ে রাখে , হজমে সহায়তা করে এবং অল্পতেই ক্ষুধা মেটায় সব মিলিয়ে ডায়েট চার্টের সেরা শশা।
প্রদাহ কমায় ভিতর থেকে
শরীরের অভ্যন্তরীণ জ্বালাযন্ত্রণা বা ইনফ্লেমেশন অনেক সময় রোগের জন্ম দেয়। শসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট , পলিফেনল , বিটা-ক্যারোটিন ও ফ্ল্যাভনয়েড সেই প্রদাহ দূর করতে সহায়ক , যা শরীরকে রাখে রোগমুক্ত ও সতেজ।
হার্টের নিঃশব্দ পাহারাদার
শসার ফ্ল্যাভনয়েড ও লিগন্যান রক্তনালীর প্রদাহ কমিয়ে হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়ায়। এর পটাশিয়াম উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
ত্বকের গভীরে এনে দেয় উজ্জ্বলতা
শুধু খাওয়াতেই নয় শসা কিন্তু ত্বকের জন্যও এক প্রকৃতিক স্কিনটনিক। শসা ও ধনেপাতা ব্লেন্ড করে খেলে ত্বক ভেতর থেকে হাইড্রেট থাকে। ব্রণ বা র্যাশের সমস্যা কমে যায়। শশার এই অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট স্কিনকে দাগহীন ও উজ্জ্বল রাখে ।
গরমের কষ্টকে সহজে সামলাতে শসা হতে পারে দৈনন্দিন ডায়েটের এক অনবদ্য সবজি। শুধু পেট নয় , শরীর-মন-ত্বক সবকিছুতেই এর উপকারিতা নিঃশব্দে ছড়িয়ে রয়েছে । তাই আর দেরি নয়। আজ থেকেই প্লেটের এক কোণে জায়গা দিন এই সবুজ মধ্যমণিকে। গ্রীষ্মকাল হয়ে উঠুক সতেজ , সুস্থ আর সজীব।
এসকে//